Tuesday, 4 December 2012

অবাস্তব ভয় বা ফোবিয়া


সাধারণত ভয় দু'শ্রেণীর। কারণজাত এবং কারণহীন। অনেক ভয় প্রকৃত ও বাস্তব কারণ থেকে জন্মায়। আবার অনেক ভয় মিথ্যা বা অবাস্তব কোন ধারণা বা বিশ্বাস থেকে সৃষ্ট হয়ে থাকে। এগুলোকে অবাস্তব ভয় বা ফোবিয়াবলে। ফোবিয়া বা অস্বাভাবিক ভীতি এক ধরনের মনোরোগ। সাধারণত দেখা গেছে যে শৈশবের কোন বিশেষ ঘটনা বা অভিজ্ঞতা তার শিশু মনে এমন একটি তীব্র ভীতির সৃষ্টি করে যার ফলে ঐ ঘটনা বা অভিজ্ঞতাটি শিশু সম্পূর্ণ বিস্মৃতি হয়ে গেলেও সারাজীবন তার সচেতন চিন্তা ও আচরণ ধারাকে প্রভাবিত করে যায়। 

ফোবিয়াকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।


১। এগোরফোবিয়া - আক্রান্ত ব্যক্তি উম্মুক্ত বা খোলামেলা জায়গায় যেমন জনবহুল বিরাট শপিং সেন্টার, সিনেমা হল, বড় বাস বা ট্রেনে প্রচন্ড রকম ভয়ে অস্থির হয়ে পড়ে। 

২। সামাজিক ফোবিয়া - আক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিক সভা-সন্মেলন, আলাপ-আলোচনা বা অন্য লোকের সাথে খাওয়া দাওয়ার সময় প্রচন্ড রকম ভয় অনুভব করে। ফলে এরা লোকজন, অতিথি, সভা সমিতি এড়িয়ে চলে। 

৩। বিশেষ প্রাণী ফোবিয়া - অনেকে সাপ, তেলাপোকা, ইদুঁর বা মাকড়সা দেখে ভয়ে অস্থির হয়। এ ধরনের ভীতি ব্যক্তির জীবন ধারণে তেমন কোন ক্ষতির কারণ হয় না। 

৪। অন্যান্য বিশেষ ধরনের ফোবিয়া - অনেকে ছাদে উঠে নিচের দিকে তাকালে অজ্ঞান হয়ে পড়ে বা ভয়র কাঁপতে থাকে। এটা উচ্চতা ভীতি। এছাড়া ফ্লাইং ফোবিয়া, অচেনা লোককে দেখে ভয়, নিঃসঙ্গ ভীতি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

প্রতিকার বা চিকিৎসা - শিশুর মন থেকে যাতে ভয় দূর হয়ে যায় এবং সে যাতে ভয়কে নিয়ন্ত্রিত করতে শেখে তার জন্য উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। বয়স্কদের বেলায় আত্ম প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুফল পাওয়া যেতে পারে। অন্যথায় মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করে মনোচিকিৎসা  এবং সাইকোথেরাপি চিকিৎসা নিতে হবে।

No comments:

Post a comment