Tuesday, 28 July 2026

ক্যাপগ্রাস সিনড্রোম

 একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে একজন ব্যক্তি তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি দেখতে আমার মায়ের মতো, কিন্তু আপনি আমার আসল মা নন। কেউ তার জায়গায় আপনাকে পাঠিয়েছে।”

শুনতে সিনেমার গল্প মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিরল মানসিক-স্নায়ুবিক অবস্থা রয়েছে যার নাম ক্যাপগ্রাস সিনড্রোম। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি তার সবচেয়ে কাছের মানুষ—মা, বাবা, স্বামী, স্ত্রী কিংবা সন্তানকে দেখতে ঠিক আগের মতোই দেখেন, কিন্তু বিশ্বাস করেন, তারা আসল নন; বরং দেখতে হুবহু একই রকম একজন ‘প্রতারক’ বা ‘নকল’ মানুষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাধারণ ভুল বোঝাবুঝি নয়; বরং মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের একটি বিরল সমস্যার ফল। 

Wednesday, 22 July 2026

পিটার প্যান সিনড্রোম

আবিদ একদম অন্যরকম। সে কখনোই তার আশেপাশের কোনো মানুষ কিংবা ঘটনার সাথে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হয় না। না আড্ডা,  না বন্ধু, না খেলা। কোন কিছুতেই সে নেই ! কর্মক্ষেত্রেও সে একদমই স্থিতিশীল নয়, কিছুদিন পরপরই চাকরি পরিবর্তন করে। সবসময় একাকীত্বে ভোগে।  


পিটার প্যান সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি হলো তারা, যারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও জাগতিক সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাখে, সমাজ সংসারের অংশ হওয়ার পরিবর্তে সেখান থেকে মুক্তির পথ খোঁজে। 

যেমন: ৩০ বছর বয়সী একজন পুরুষের কাছে হয়তো দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে, কিন্তু মানসিকভাবে সে এখনো একজন কিশোর রয়ে গেছে। তাই সে ভাবছে, তার উপর অর্পিত দায়িত্বগুলো অন্য কেউ পালন করে দেবে, যেমনটি বড়রা করত সে কিশোর বয়সী থাকতে।

মূল লক্ষণসমূহ

Wednesday, 15 July 2026

ট্রাইকোফিলিয়া (Trichophilia)

মেয়েদের দীঘল ঘন চুলের প্রতি আমার খুব আকর্ষন ৷ আমার ড্রিম স্ত্রীর দীঘল চুল হবে, কালো ঘন রেশমের চাদরের মত, সেই চুলের উপর শুয়ে থাকবো, চুল আঁচড়ে দিব, চুল নিয়ে খেলব, গন্ধ নেবো ৷ আমার ফিজিকাল আকর্ষনের চেয়ে বেশি চুলে আকর্ষণ ৷

চুলের প্রতি আমার কি যে আকর্ষণ তা বলে বুঝানো যাবে না। মেয়েদের খোলা লম্বা চুল বা বড় চুলের খোঁপা দেখলে আমি মনে মনে বিভিন্ন ফ্যান্টাসি করি, অস্থির হয়ে যাই।

Saturday, 4 July 2026

পরকীয়া করার জন্য মানুষ যে ৭টি জঘন্য কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকেন

 


পরকীয়া একটি সামাজিক ব্যাধি। অসুস্থ মন মনন ও মানসিকতার পরিচায়ক। এই পরকীয়া শুধু একটি সংসারকে ধ্বংস নয়, একটি সমাজ জাতি ও রাষ্ট্রকে কলুষিত করে দিতে পারে। প্রতিনিয়ত এই পরকীয়ার কারণে বহু এমন ঘটনা আমাদের চারপাশে ঘটছে যা সংসার ও সমাজকে অস্থির করে তুলছে। পরকীয়ার আক্রান্ত কোনো সংসার আজ পর্যন্ত টেকেনি, স্থায়ী হয়নি, সুখি হয়নি। সংসারে স্বামী বা স্ত্রী যেই হোক সংসার ভাঙ্গবেই। 
পরকীয়া করার জন্য ও বিপরীত লিঙ্গের মন ভোলাতে মানুষ আশ্রয় নিয়ে থাকেন জঘন্য কিছু কৌশলের। চলুন, চিনে নিই পরকীয়া করার আগ্রহে যেসব জঘন্য বাজে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ।

সংসারে অশান্তির শিকার, এমনটা দেখানো

পরকীয়া


 ‘পরকীয়া’শব্দের অর্থ বলতে যা বুঝি, তা হলো বিবাহিত কোন ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ) স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহ বহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক, সেটা মানসিক, দৈহিক বা দু’য়ের তাড়নায়ও হতে পারে।

পরকীয়ার সুফল নিয়ে বিতর্ক আছেই, আর কুফল নিয়ে নি:সন্দেহে বলা যায়, পরকীয়তা একটা আপাতদৃষ্টিতে সাজানো, গোছানো সংসারকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে, জীবনকে করে দিতে পারে লণ্ডভণ্ড , বাঁচার ইচ্ছেটাকে অর্থহীন করে তুলতে পারে, প্ররোচিত করতে পারে আত্মহননের রাস্তা বেছে নিতে । তবু ‘পরকীয়া’ হয়, কিন্তু কেন হয়?
১. মনোদৈহিক ও সামাজিক কারণে

প্যাথলজিক্যাল লায়ার/মিথ্যেবাদী

 

আমাদের আশে-পাশে, পরিচিতদের অনেককেই আমরা শুধু শুধুই মিথ্যা বলতে দেখি। তারা মিথ্যা এমন সুন্দর করে বলেন, মনে হবে পুরাই সত্য। তারা মিথ্যাকে একটা আর্টের পর্যায়ে নিয়ে যান। এরকম মানুষকে সাইকোলজির ভাষায় প্যাথলজিক্যাল লায়ার/মিথ্যাবাদী বলা হয়।

যে ব্যাক্তি মিথ্যাচারকে একটি আর্টফর্মে নিয়ে গিয়েছেন। মিথ্যা বলতে বলতে এমন অবস্থা চলে যায় যে, তখন সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তখন তাকে বলা হয় প্যাথলজিক্যাল লায়ার।
প্যাথলজিক্যাল লায়াররা সাধারণত প্রয়োজন ছাড়া, অহেতুক পরিণতির চিন্তা না করেই মিথ্যা কথা বলেন। যা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় এবং অনেকেই এটা উপলব্ধি করতে পারেন না।
আমাদের দেশের অনেক নেতা-নেত্রী এই রোগে ভুগেন।

গাইনিকোম্যাস্টিয়া: ছেলেদের স্তন

 

পুরুষের বুক হবে সমতল কিংবা সামান্য উঁচু। কিন্তু কারও স্তন যদি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং অনেকটা নারীসুলভ হয়ে যায়, তখন তা অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম গাইনিকোম্যাস্টিয়া।

নবজাতক অবস্থায় বাচ্চা ছেলেদের এ রকম থাকতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের স্তনে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়, যেটি সাধারণত দুই-তিন বছরের মধ্যেই কমে যায়। এ ছাড়া প্রৌঢ়ত্বের পরে বয়স্ক পুরুষদের মধ্যেও এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বয়ঃসন্ধিকালে এ বৃদ্ধি হলেও তা আবার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা। যদি ১৮ বা ২০ বছর বয়সেও তা স্বাভাবিক না হয়, তখন একে সমস্যা হিসেবে ভাবা হয়। যদি পোশাকের বাইরে থেকেও এটি বোঝা যায় এবং তা নিয়ে সেই তরুণ বা যুবক সামাজিকভাবে বিব্রত হন, তখন এটির চিকিৎসা করার প্রয়োজন হয়।
এ সমস্যা কেন হয়?

সম্পর্কের নতুন পরিভাষা ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল


স্যাপিওসেক্সুয়াল’ কি ?
স্যাপিওসেক্সুয়ালদের প্রেম ও যৌনতার অনুভূতি আবর্তিত হয় মস্তিষ্ককে ঘিরে। চেহারার কিছু ভূমিকা অবশ্য থাকে, কিন্তু তা নেহাতই সাময়িক। শারীরিক সৌন্দর্য বা সামাজিক অবস্থানের চেয়ে তাঁদের কাছে অনেক বড়ো হয়ে দাঁড়ায় উলটোদিকের মানুষটির বুদ্ধিমত্তা। উলটোদিকের মানুষটির গভীর চিন্তাশক্তি, কৌতূহলী মনোভাব, প্রচলিত ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করার মানসিকতা তাঁদের প্রচণ্ড আকৃষ্ট করে। মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, দার্শনিক আলোচনা থেকে তারা রসদ সংগ্রহ করেন, এবং মনে করেন কারও যৌন আকর্ষণ শরীরে নয়, বরং তার মেধায় লুকিয়ে থাকে।
স্যাপিওসেক্সুয়াল মানে হলো -এমন একজন মানুষ, যার কাছে শারীরিক সৌন্দর্যের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা বেশি আকর্ষণীয়।
তাদের কাছে সুন্দর চেহারা, ফ্যাশন, গ্ল্যামার কিছুই তেমন গুরুত্বপূর্ণ না।
বরং, কেউ যদি খুব জ্ঞানী হয়, যুক্তিবোধে শক্তিশালী হয়, আর তার চিন্তাধারা অন্যরকম হয় — তখনই প্রেমে পড়ে এই স্যাপিওসেক্সুয়াল মানুষগুলো।

উদাহরণস্বরূপঃ
মানুষ যখন কারও প্রেমে পড়ে তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই সে চেহারা, বাহ্যিক সৌন্দর্য ইত্যাদি দেখে প্রেমে পড়ে। কিন্তু এমনকিছু মানুষ আছেন যারা চেহারা কিংবা শারীরিক সৌন্দর্য নয়, শুধু বুদ্ধিমত্তা দেখেই প্রেমে পড়েন তারা। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’।

আপনি যদি কখনো বুঝে থাকেন, কারো বুদ্ধিদীপ্ত কথা বা কাজে আপনার মন হারিয়ে গেছে, তাহলে আপনি সম্ভবত স্যাপিওসেক্সুয়াল।
চেহারা একদিন বুড়িয়ে যাবে, কিন্তু মনের আকর্ষণ অমর।
শারীরিক আকর্ষণ থাকতে পারে, কিন্তু সেটা বড়ো কথা নয় ...
মেধা বা বুদ্ধির আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি হলেও শারীরিক আকর্ষণ যে একেবারেই নেই, তা কিন্তু নয়! কিন্তু স্যাপিওদের কাছে শারীরিক আকর্ষণটা খুবই সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য কখনওই চেহারাটা বড়ো হয়ে দাঁড়ায় না তাঁদের কাছে।
১. সেপিওসেক্সুয়ালরা প্রেমে পড়ার জন্য বুদ্ধিমত্তার ওপর গুরুত্ব দেন বেশি। অপর পক্ষের গভীর চিন্তাশক্তি, কৌতূহলী মনোভাব, প্রচলিত ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করার মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বই তাঁদের টানে বেশি। এদের কাছে আকর্ষণ শরীরে নয়, বরং মেধায় লুকিয়ে থাকে।
২. সেপিওদের ধরন দুই প্রকার।
এক, এঁরা বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে আকর্ষণ বোধ করেন।

রোগের নাম Fatal Familial Insomnia (FFI)

এক বিরল রোগ, যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে ঘুম হারিয়ে ফেলে এবং মারা যায়। রোগটার নাম Fatal Familial Insomnia (FFI)।


এই রোগে প্রথমে ধীরে ধীরে ঘুম কমে যায়, এরপর একসময় একেবারেই ঘুম আসা বন্ধ হয়ে যায়। চোখ বন্ধ থাকলেও মস্তিষ্ক জেগে থাকে, আর শরীর সম্পূর্ণ ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যায়, স্মৃতি কমে যায়, হ্যালুসিনেশন দেখা দেয়।

মোবাইল ফোনঃ বাড়ছে বিরল মানসিক রোগ

♦ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোরের ভবিষ্যৎ
♦ পেরেন্টাল কন্ট্রোল সম্পর্কে জানেনই না অভিভাবকরা
ধানমন্ডির একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নবম গ্রেডের শিক্ষার্থী। বয়স ১৪। পঞ্চম গ্রেডে পড়ার সময় অনলাইন ক্লাসের জন্য মেয়েকে ‘স্মার্ট ফোন’ দিতে বাধ্য হন অভিভাবকরা। ‘সেভেন গ্রেডে’ ওঠার পরই মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ে সেই মেয়েটি। সারা রাত মোবাইল স্ক্রিনের ওপর পড়ে থাকে তার দুই চোখ। ক্রমেই খারাপ হতে থাকে তার পরীক্ষার রেজাল্ট। একসময় বাবা-মা টের পান তাদের আদরের মানিক একটি মাদকাসক্ত ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে। মা-কে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে ছেলেকে বাসায় ডাকত। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে ঘর থেকে বের হয়ে যেত। মোবাইল ফোন কেড়ে নিলে সে ঘরে ভাঙচুর করত। বাবা-মায়ের গায়ে হাত তুলত। তবে মানসম্মানের ভয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থও হতে