Saturday, 21 December 2013

হঠাৎ রেগে যাওয়া বা ইন্টারসিটেন্ট এক্সপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার

মারামারি ভাঙচুর বা রাগ দেখানো অনেক মানসিক রোগের সাধারণ উপসর্গ। এসব মানসিক রোগের মধ্যে আছে বাইপোলার অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, বিষণ্নতা, ব্যক্তিত্বের সমস্যা ইত্যাদি। কিছু কিছু মানুষ পাওয়া যায় যারা এসব রোগে ভুগছেন না কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ খুব সাধারণ কারণে এমন রেগে যান যে আশপাশের সবাই হতভম্ব হয়ে যায়। ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারেন যে তার রেগে যাওয়াটা ঠিক স্বাভাবিক না কিন্তু তিনি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেন না। এ মানসিক রোগকে হঠাৎ রেগে যাওয়া বা ইন্টারসিটেন্ট এক্সপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার বলে।

এ রোগের বৈশিষ্ট্য হলো: 

ব্যক্তি অধিকাংশ সময় তার রাগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে অন্যকে আঘাত করে বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করে। যে ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যক্তি রাগ প্রকাশ করছে সে ঘটনার বিচারে ব্যক্তির রাগের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। ব্যক্তি অন্য কোনো মানসিক রোগে বা ব্যক্তিত্বের সমস্যায় ভুগছে না, কোনো মাদকের প্রভাবেও এ ধরনের আচরণ করছে না।

কারণ ও প্রকোপ:

হঠাৎ রেগে যাওয়া রোগের কারণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে এ রোগের প্রকোপ খুব বেশি নয় বলেই ধারণা করা হয়। সাধারণত পুরুষের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। অল্প পরিমাণে হলেও মহিলাদের মধ্যেও এ রোগ দেখা যায়। বিশেষত মাসিকের ঠিক আগে আগে অনেক মহিলাকে এই রোগে ভুগতে দেখা যায়।

চিকিৎসা:

এ রোগের চিকিৎসার জন্য মনোচিকিৎসা ও ওষুধ এ দুয়ের প্রয়োগের দরকার হয়। মনোচিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে রাগ নিয়ন্ত্রণের নানা কৌশল শেখানো হয়। এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলোর মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ ও কার্বামাজেপিন, লিথিয়াম, ডাইভেলপ্রো-এক্স ইত্যাদি

বাধ্যতাধর্মী অসুস্থতা:

বাধ্যতাধর্মী অসুস্থতা কী? এটা এক ধরনের মানসিক রোগ। এ রোগে কিছু নির্দিষ্ট অস্বস্তিকর চিন্তা ব্যক্তির মনে ঘুরে ঘুরে বারবার আসে। এসব চিন্তা ব্যক্তির নিজের মনেই তৈরি হয়। ব্যক্তি এসব চিন্তা মন থেকে দূরে সরাতে চায় কিন্তু পারে না।

কী ধরনের চিন্তা মনে আসে?

বিভিন্ন ধরনের চিন্তা আসে। চিন্তাগুলোকে ৫ ভাগে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়। এগুলো হচ্ছে জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের চিন্তা, কোনো একটা কাজ ঠিকমতো করেও তা করা হয়নি এ ধরনের দ্বিধা, সবকিছু একটা নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে সাজানোর ইচ্ছা, কারও ক্ষতি করার ইচ্ছা, অস্বাভাবিক যৌন চিন্তা।

শুধু কি ব্যক্তি চিন্তাই করে?

অনেকের মধ্যে চিন্তাটাই থাকে। অধিকাংশ ব্যক্তি এসব চিন্তার হাত থেকে মনকে অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য যতগুলো কাজ করে যেমন বারবার হাত ধোয়া, গণনা করা, বারবার পরীক্ষা করা, বারবার তওবা করা, একই কাজ বারবার করা ইত্যাদি। এসবকে বলে কম্পালশান। এগুলো আমরা যাকে শুচিবাই বলে সে রকম শোনাচ্ছে। হ্যাঁ শুচিবাই এ রোগের একটা উপসর্গ। শুচিবাইগ্রস্ত রোগী বারবার হাত ধোয়া বা পরিষ্কার পরিছন্নতার বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত সজাগ থাকে।

এ রোগের কারণ কী?

আগে মনে করা হতো ছোটবেলায় কঠিন শৃঙ্খলা শিক্ষা দেয়ার ফল হিসেবে আবেগের উৎপত্তি হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ তত্ত্ব প্রমাণিত হয়নি। গবেষণায় দেখা গেছে মস্তিষ্কের স্ট্রায়েটাম নামের অংশের গোলমালের ফলে এ রোগের উৎপত্তি হয়।
এ রোগের চিকিৎসা আছে?

হ্যাঁ, এ রোগের চিকিৎসা আছে। সাধারণত ওষুধ ও বিহেভিয়ার থেরাপির সমন্বয়ে এ রোগ চিকিৎসা করা হয়। ব্যবহৃত ওষুধগুলোর মধ্যে আছে: ফ্লুক্সেটিন, সারট্রালিন, ক্লোমিপ্রামিন, ফ্লুভক্সামিন ইত্যাদি। বিহেভিয়ার থেরাপির ক্ষেত্রে এক্সপোজার অ্যাড রেসপন্স প্রিভেনশন পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়।

No comments:

Post a comment