Friday, 3 October 2014

হ্যালুসিনেশন

100
‘হ্যালুসিনেশন’ শব্দটির সাথে কমবেশী আমরা পরিচিত। অনেকেই মনে করি হ্যালুসিনেশন মজার একটি বিষয়। কিন্তু হ্যালুসিনেশন কখনোই মজার কোন বিষয় না। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা যখন কেউ ভ্রান্তির ভেতর বসবাস করে অজান্তে। আসলে মিথ্যার জগতে বসবাস করে কেউ ভাবে সে সত্যজগতে বসবাস করছে। এটি একটি অস্বাভাবিক অনুভূতি। এ অনুভূতি স্বাভাবিক অনুভূতির মতোই ঘটে থাকে।
যেমন ধরুন কেউ একজন হয়তো দাবী করে অদৃশ্য কেউ তার কানে কানে কথা বলে যায়  তার মানে ঐ ব্যাক্তির শ্রবণেন্দ্রিয়ের হ্যালুসিনেশন ঘটে থাকে। হ্যালুসিনেশন দেহের প্রতিটি ইন্দ্রিয়তে ঘটতে পারে। কেউ হয়তো দেখে তার আশেপাশে একটা কুকুর সব সময় হাঁটাহাঁটি করছে; আদতে কোন কুকুর
আসলে তার আশেপাশে থাকে না। এটা ভিজ্যুয়াল হ্যালুসিনেশন। এমনও হতে পারে আক্রান্ত মানুষটি এক বা একের অধিক মানুষের সাথে কথা বলতে পারে। হতে পারে সে এখানে বসে দূরের কারো সাথে কথা বলছে। আসলে কেউ কেউ এটাকে অলৌকিক শক্তি ভাবলেও এটা একটা মানসিক রোগের উপসর্গ।
হ্যালুসিনেশনের কারণ:
হ্যালুসিনেশন আসলে কোনো রোগ নয়, এটি অন্য রোগের উপসর্গ। এটি সাধারণত মানসিক রোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থেকেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। তাই কেবল হ্যালুসিনেশন দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সাধরণত যেসব কারণে হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে—
১. সিজোফ্রেনিয়া, সিভিয়ার মুড ডিসঅর্ডার, ডিল্যুশনাল ডিসঅর্ডারে রোগীর প্রায়ই হ্যালুসিনেশন হতে পারে।
২.মস্তিস্কের সমস্যায় হ্যালুসিনেশন হতে পারে।
৩. শরীরে লবণের তারতম্যের জন্যেও স্বল্পমেয়াদের হ্যালুসিনেশন দেখা দিতে পারে।
৪. প্রচণ্ড জ্বর হলে, বিশেষ করে শিশুদের হ্যালুসিনেশন হয়।
৫. মৃগীরোগ, বিষণ্নতা, হিস্টিরিয়া এমনকি ব্রেন টিউমারের বেলাতেও হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে।
৬. স্নায়ুতেন্ত্রর রোগে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৭. ইন্দ্রিয়ের সমস্যায় হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে।
৮. লিভার বা কিডনির সমস্যা, ব্রেইন ক্যান্সার প্রভৃতি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে।
৯. মাত্রারিক্ত ড্রাগস বা অ্যালকোহল সেবনের কারণেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে।
যে কারণেই হ্যালুসিনেশন হোক না কেন, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বদ-অভ্যাসগুলো ত্যাগ করুন। সুস্থ থাকুন।
নেট থেকে

No comments:

Post a comment