Wednesday, 4 September 2013

দেশে বছরে ১০ হাজার লোক আত্মহত্যা করে; অভিনেত্রী মমর আত্মহত্যার চেষ্টা: তিনি কি বিষন্নতায় ভূগছেন?

কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে জাকিয়া বারী মমকে এই হাসপাতালে আনা হয়। এরপর সেখানে তার স্টোমাক ওয়াশ শেষে ১৩০৭ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, গতকাল মম পরিচালক শিহাব সুমনের একটি নাটকের শুটিং শেষে বেলা ৩টার দিকে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে তার বাসায় আসেন। এরপর  মম কীটনাশক
পান করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। 
বিষণ্নতা খুবই বাস্তব এবং সাধারণ মানসিক রোগ। এই রোগটি চিকিৎসা যোগ্য।বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন আপনার কোনো দোষ নয়, দুর্ভাগ্যও নয়। তাই আপনি একা নন এবং আপনি সেরে উঠতে পারবেন। তবে ডিপ্রেশনের ভয় একটাই তা হলো আত্মহত্যা করে বসা। মেজর ডিপ্রেশন যাদের হয় তাদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি থাকে প্রায় ২০ গুণ, যা অন্য সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি 
  • মানুষ যখন নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে,
  • নিজেকে নিজেই অবমূল্যায়ন করতে শুরু করে; তখনই আত্মহত্যার ঝুকিটা প্রবল হয়ে দেখা দেয়। 
  • ডিপ্রেশনের চরম অবস্থায় জীবনের বড় বড় সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে যথাসাধ্য বিরত থাকুন। যেমন-বর্তমান চাকরি পরিবর্তন করা বা ছেড়ে দেয়া অথবা বিয়ে করা বা ডিভোর্স দেয়া। মনে রাখার মতো কথা হলো ডিপ্রেশন অবস্থায় বা ডিপ্রেশন প্রচণ্ডতার সময় জীবনের বড় বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটু পিছিয়ে দিন অর্থাৎ আপনার ডিপ্রেশন রোগটি ভালো না হওয়া পর্যন্ত আপনি আপনার সব সিদ্ধান্তকে দূরে সরিয়ে রাখুন। প্রথমে সেরে উঠুন, তারপর সব করা যাবে। 
  • প্রয়োজনে ডাক্তার, সাইকোথেরাপীর সাহায্য নিন।

যুগান্তরের একটি রিপোর্ট
গত দু’মাসে (জুলাই-আগস্ট) একই রশিতে ফাঁস দিয়ে ৫টি আত্মহত্যার ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি লোক আত্মহত্যা করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই এ সংখ্যা পর্যন্ত সারাদেশে ৬ হাজার ১৯টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে শুধু ঢাকা রেঞ্জে ১০২২টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। ২০১২ সালে ছিল ১৫২৬টি। আত্মহত্যা-প্রবণতা রোধে সমাজ কিংবা রাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও রাখতে পারছে না। অপরাধ, ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ, সমাজ ও মনোবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকরা বলছেন, দুঃখ-যাতনার কোনো পর্যায়েরই একজন ইমানদার ও দায়িত্ববান ব্যক্তি আত্মহত্যা করতে পারে না। ভালোবাসা অর্থই হল একজন মানুষ দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে বাঁচাবে এবং অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করবে। 

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় সব চেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হলেও সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে আত্মহত্যার ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা। ২০১২ সালে সারাদেশে ফাঁস দিয়ে, বিষপান ও গায়ে আগুন লাগিয়ে ১০ হাজার ২৩৫ জন আত্মহত্যা করে এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পযর্ন্ত সারাদেশে ৬ হাজার ১৯ জন আত্মহত্যা করে। নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঢাকা রেঞ্জে, সেখানে ২০১২ সালে ১৫২৬ জন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০২২টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। 

আত্মহত্যার ভয়াবহতার বিষয়ে পরিবার, সমাজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক শিক্ষা প্রদান করা জরুরি। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মহত্যার ভয়াবহতা ও প্রতিরোধে সভা-সেমিনার রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করা দরকার। স্কুল বা যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মানসিক রোগ সম্বন্ধে জানা দরকার, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের মানসিক চাপ বা সমস্যা হলে বুঝতে পারেন এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে পারেন।

No comments:

Post a comment