Wednesday, 2 July 2014

পিকা রোগ

অনেক সময় ঠাণ্ডা জ্বর হলে খাওয়ার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়। কিছুই খেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু অনেকের হয়তো জানা নেই "পিকা" নামক একটি রোগে আক্রান্ত হলে রোগী খাওয়ার অযোগ্য জিনিসগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে যায়। খেতে শুরু করে অচর্বণযোগ্য জিনিসগুলো। শিশুদের মধ্যে ‘অখাদ্য’ খাওয়ার প্রবণতা বিরল নয়। কেউ মাটি খায়, কেউ সাবান। কেউ দেওয়ালের চুন।  এটা এক ধরণের মানসিক রোগ। এ রোগটি সাধারণত ‘পিকা’ নামে পরিচিত ৷ উদ্বেগ থেকেই এই রোগের জন্ম হয়। পড়াশোনা বা অন্য কোনো বিষয়ে মনের উপর সম্ভবত চাপ সৃষ্টি হয়ে সেখান থেকেই এই রোগের উৎস।  
ভারতের কলকাতায় ১২ বছরের এক মেয়ের পাকস্থলীতে আড়াই
কেজি চুল পাওয়া গেছে! ছোট থেকেই নেহার চুল ছেঁড়ার বাতিক ছিল। বদ অভ্যাস ফেরাতে মা শীলা সাউ কয়েকবার মারধরও করেছেন নেহাকে। মায়ের মারে কয়েকদিন আগে মাথা ফেটেছে নেহার। তবু নিজেকে শোধরাতে পারেনি ষষ্ঠ শ্রেণির এই ছাত্রী। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। এমন বদ অভ্যাস খুব একটা বিরল নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায়, এই রোগের একটা নামও আছে, ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া। কিন্তু নেহার সমস্যা ছিল আরো গভীর। সে শুধু চুল ছিঁড়েই ক্ষান্ত হতো না তা মুখে পুরে নিতো। বছরের পর বছর সবার অলক্ষে এভাবেই চুল খেয়েছে সে। সেই চুলই পাকস্থলীতে গিয়ে হজমরসের সঙ্গে মিশে টিউমারের আকার নিয়েছে। তাই খেলে পেট ব্যথা, বমি হত নেহার। 
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের বাসিন্দা কেরি ট্রেবিলকক এমনই এক জিনিসের প্রতি আসক্ত হয়েছেন। হট সস মিশিয়ে বাসন মাজনির স্যান্ডুইচ বানিয়ে গোগ্রাসে গিলেছেন। তিনি এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি বাসন মাজনি খেয়েছেন বলে জানান। দ্য সানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ২১ বছর বয়সী ট্রেবিলকক বলেছেন, তিনি পিকা নামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে খাওয়ার অযোগ্য জিনিসগুলোর প্রতি আসক্ত হয়েছেন। তিনি বাসন মাজনিগুলো হট সস ও মাস্টার্ড দিয়ে খেতে পছন্দ করেন। এছাড়া তিনি ১০০টি সাবান কড়মড় করে কামড়ে খেয়েছেন বলেও জানান। 
পিকা রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি থেরাপী খুবই জরুরী।

No comments:

Post a comment