Saturday, 4 July 2015

সিজোফ্রেনিক ডিলিউশন বা ভ্রান্ত বিশ্বাস

ডিলিউশন বা ভ্রান্ত বিশ্বাস
সিজোফ্রেনিকদের অস্বাভাবিক বিশ্বাস থাকতে পারে।তারা তাদের বিশ্বাসগুলোতে সব সময় অবিচল থাকে-বিশ্বাসগুলো ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও কালচারাল বা সংস্কৃতিগত এবং শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী, তথাপি রোগী এতে বিশ্বাস স্থাপন করে। 
যাদের সিজোফ্রেনিয়া আছে তারা লাল-সবুজ ট্রাফিক সিগন্যালকে আদেশ বা নির্দেশ মনে করতে পারে। অনেক সিজোফ্রেনিক রয়েছে যারা বিশ্বাস করে তাদের বিরুদ্ধে অন্যরা সমালোচনা বা ষড়যন্ত্র করে চলেছে। মনে করে কেউ তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা লেলিয়ে দিয়ে দূর থেকে তার কাজকর্মকে দেখছে। সিজোফ্রেনিয়ার এ ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ধারণাটি প্রবলমাত্রায় থাকে, একে
বলে প্যারানয়েড। সহজ বাংলায় সন্দেহবাতিকতা যা স্বাভাবিক সীমাকে ছাড়িয়ে যায়। অনেকে আবার বলে থাকে যে, তাদের চিন্তা-চেতনা ও মনের কথাগুলো কেউ চুরি করে নিয়ে রেডিও, টেলিভিশন বা সিনেমায় প্রচার করছে। তারা এ রকমও বলে যে, বাইরের কোনো শক্তি তাদের চিন্তা-ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
চিন্তায় গণ্ডগোল বা অসংলগ্ন চিন্তাধারা
সিজোফ্রেনিকরা তাদের চিন্তা-ভাবনাকে গোছগাছভাবে বা সমন্বিত রাখতে পারে না-প্রায়শ তাদের চিন্তা-ভাবনার ধরন থাকে বিক্ষিপ্ত। অনেক সিজোফ্রেনিকের কথাবার্তার পেছনে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি থাকে না। হঠাৎ করে মাথায় উল্টা-পাল্টা চিন্তা আসে আবার বোঝার আগেই হুটহাট করে চিন্তাগুলো হারিয়ে পুরো মাথা একদম ফাঁকা হয়ে যায়। যেহেতু তাদের চিন্তন পদ্ধতির কাঠামো অসংলগ্ন বা বিশৃঙ্খলতায় পরিপূর্ণ, তাই তাদের কথাবার্তাও প্রায় সময়ই অসংলগ্ন ও অযৌক্তিক থাকে। তাই দেখা যায় এদের আবেগজনিত প্রকাশ ও সত্যিকার পরিস্থিতি অনেকাংশে খাপ খায় না। যেমন যেখানে হাসা দরকার সেখানে এরা কেঁদে ফেলে এবং উল্টোটাও ঠিক।কিংবা বলা যায়, যা করা উচিৎ না, তাও করে। যা নাকি তার বয়স বা কাল-পাত্রের সাথে খাপ খায় না! 

No comments:

Post a comment