Thursday, 12 November 2015

মাদকাসক্ত ঐশীর ফাঁসির আদেশ এবং আমাদের দায়বদ্ধতা


২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হওয়ার পর পালিয়ে যায় ঐশী। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন ১৭ আগস্ট ঐশী রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। এর পর ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন ঐশী।


ঐশীর এই অবস্হার দায় সমাজের, দেশের,সরকারের, আমাদের সবার।মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের যে আত্মিক বন্ধন থাকে, বাবা-মার ব্যস্ততার কারণে তারাও সন্তানের দিকে নজর দেন না এবং দিতে পারেন না। গত এক দশকে দেশে যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে, তা সংশ্লিষ্টরা লক্ষ করেননি। বিশেষ করে, ইয়াবার সহজলভ্যতাতে মাদকাসক্তিদের সংখ্যা বেড়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদেরও এই অন্ধকার পথে যাত্রা বাড়ে। ইয়াবা ওজন কমিয়ে স্লিম রাখবে, ক্ষুধা-নিদ্রা-ক্লান্তি হরণ করে তরতাজা-সচল রাখবে, যৌন কামনা ও যৌন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে—এ রকম বিশ্বাস অনেক আধুনিক তরুণ-তরুণীর। ধনীর সন্তানেরা ইয়াবা মাদক ব্যবসায়ীদের প্রধান টার্গেট। ঐশীর মতো অনেক ছেলে মেয়েই সহজে এর শিকার হয়। সমাজের এক-তৃতীয়াংশ অপরাধ ঘটে থাকে ১৭ বছরের নিচের কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা। এদের বেশির ভাগই আচরণগত সমস্যাগ্রস্ত (কনডাক্ট ডিজঅর্ডার) ছেলেমেয়ে। এদেরই একটি অংশ প্রাপ্ত বয়সেই পেশাদার অপরাধী বনে যায়। এভাবেই ঐশীরা আস্তে আস্তে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার ঐশী সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন। তারা হয়তো মা- বাবাকে খুন করছে না, কিন্তু তারা বাবা- মার জীবন বিষিয়ে তুলছে, তারা সমাজকে একদিন বিষিয়ে তুলবে। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান।

No comments:

Post a comment