Friday, 4 March 2016

সাইকোটিক ডিপ্রেশনে ভুগছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকায় ২ শিশু হত্যার ঘটনায় তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রীর বি ব্লকের একটি বাড়ী থেকে ইশরাত জাহান অরণী (১৪) ও তার সহোদর ভাই আলভী আমানকে (৬) অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ঘটনার পর পিতামাতাসহ পরিবারের অনেকেই খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে আসছিলেন। 
কিন্তু শিশু ২টির মা মাহফুজা মালেক জেসমিন জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার সন্তানদের ‘নিজেই হত্যা করেছেন’ বলে স্বীকার করেন। হত্যাকাণ্ডের বিবরণও তিনি বিস্তারিতভাবে দিয়েছেন। কেন তিনি সন্তানদের হত্যা করেছেন তার কারণ জানতে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে ওই নারী বার বারই বলেছেন, ছেলেমেয়ের
লেখাপড়া ও ভবিষ্যত্ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই ছেলেমেয়েদের শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মৃত্যুর পর ছেলেমেয়ের লাশের ময়নাতদন্ত করতেও আপত্তি জানিয়েছিলেন ওই মা। দুই শিশুর মধ্যে ১৪ বছর বয়সী নুসরাত জাহান অরণি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (মূল শাখা) পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আর তার ছোট ভাই আলভী আমান (৬) পড়ত হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারিতে। সোমবার রাত ৮টার দিকে রামপুরা বনশ্রীর বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় শিশুদের মা ও খালা দাবি করেছিলেন চাইনিজ রেস্তোরাঁ থেকে আনা খাবার খেয়ে শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে পরদিনই ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যের পর পাল্টে যায় চিত্র।
কেন হত্যা করলেন? জানতে চাইলে শিশুদের মা জেসমিন বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারবে না, কিচ্ছু পারবে না। ওদের দ্বারা কিচ্ছু হবে না। এ বিষয়টি আমার সব সময় মনের মধ্যে শুধু ঘুরঘুর করত। অনেক কষ্ট হতো আমার। তবে এ বিষয়টি আমি আমার স্বামী কিংবা অন্য কারও কাছে শেয়ার করি নাই। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখ থেকে এ বিষয়টি সব সময় আমার মাথায় কাজ করত। আমি ঘুমাতে পারতাম না।’
সন্তানদের মারার পর স্বীকার করেননি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জেসমিন বলেন, ‘আমি কাউকে বলি নাই। আমি বিপদ থেকে বাঁচতে চাইছিলাম। মনে করছি যা হওয়ার তা তো হইছেই। এখন যদি আমি বলি তা হইলে তো আমি ধরা পড়ে যাব। আমার ফাঁসি হবে। এখন যদি বাঁচতে পারি তাহলে নতুন করে জীবনটা আবার শুরু করতে পারব।’ দুই বাচ্চাকে হত্যা করা তার ভুল হয়েছে এমন দাবি করে জেসমিন বলেন, ‘আমার স্বামী সব সময় ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। তার পরও তাকে যদি আমি বলতাম তাহলে আমাকে সে একটা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাইত। তাহলে আজ এমন ঘটনা ঘটত না।’
পাঠক, এরকম সাইকো ডিপ্রেশন রোগী আমাদের সমাজে আপনার- আমার পাশেই অনেক আছে। আমরা অনেকেই এই "সাইকো ডিপ্রেশন" এবং "সিজোফ্রেনিয়া"কে মিলিয়ে ফেলি। সমাজে হতাশা বাড়ছে। আর এর থেকে সহিংসতা জন্ম নিচ্ছে। সামান্য ভুল এবং অজ্ঞতার কারণে দুটি নিষ্পাপ বাচ্চাসহ একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।
সুতরাং মনের মধ্যে অস্বাভাবিক কোন চিন্তা, প্রশ্ন দেখা দিলে দেরী না করে প্রফেশনালদের সাহায্য নিন।

No comments:

Post a comment