Wednesday, 29 June 2016

ঘুমের আতঙ্ক হিপনোফোবিয়া

ঘুমের অভাবে রাতের পর রাত জেগে থাকেন অনেকেই। এরই মধ্যে হানা দিয়েছে হিপনোফোবিয়া। ঘুম নিয়ে নতুন আতঙ্ক বাসা বাঁধছে মানুষের মনে।

ঘুম নিয়ে অহেতুক ভয়। এই অসুখের নাম হিপনোফোবিয়া। প্রতি বছর এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। মুশকিল হচ্ছে, রোগ সারানোর বেশির ভাগ থেরাপি সময়সাপেক্ষ। তাছাড়া, অনেক সময় রোগীকে মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দীর্ঘ দিন কাটানো চিকিৎসা পদ্ধতিরই অঙ্গ। ফলে সমস্যা জটিল হয়ে দেখা দিচ্ছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রোগমুক্তি সম্ভব। হিপনোফোবিয়া আক্রান্ত মানুষ ঘুমোতে যেতে ভয় পান। 

কী কারণে হয় হিপনোফোবিয়া

আত্মরক্ষা করার প্রস্তুতি থেকেই অবচেতনে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধে হিপনোফোবিয়া। অতীত জীবনে ঘুম
বা সম্মোহন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ঘটে থাকলে মনে তার প্রভাব পড়ে। ঘনিষ্ঠজনের কোনো নিদারুণ ক্লেশের সাক্ষী হয়ে থাকলে বা সিনেমা বা টিভিতে দেখানো ভয়ঙ্কর কোনো দৃশ্য যার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে, তার স্মৃতি অবচেতনে মানসিক বিকার তৈরি করে। অবচেতনে ধারণা সৃষ্টি হয়, সব কিছুর মধ্যেই বিপদের উপস্থিতি রয়েছে। এর জেরেই সৃষ্টি হয় হিপনোফোবিয়া।

রোগের লক্ষণ: দ্রুত বেগে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, ছোট ছোট শ্বাস নেয়া, অত্যধিক ঘাম হওয়া, প্রায়ই ভয় পাওয়া, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, গা-গুলোনো ভাব, তবে রোগী অনুযায়ী রোগের লক্ষণ বদলাতে পারে।

হিপনোফোবিয়ার চিকিৎসায় একাধিক ওষুধ দেয়া হয়। যদিও মনে রাখা দরকার, হিপনোফোবিয়া কোনো ওষুধে সারে না। কিন্তু ওষুধের সাহায্যে রোগজনিত কষ্ট হ্রাস করা সম্ভব। অসুখটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ওষুধ ছাড়ার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ভয়ঙ্কর হতে পারে।

হিপনোফোবিয়া নিয়ে বেঁচে থাকলে কী কী ক্ষতি হতে পারে

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের দাবি, সময় মতো রোগ না সারালে সারা জীবন ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে কাটানোই হতে পারে। এর জেরে পারিবারিক অশান্তি ও সম্পর্কহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে। জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অধরা থেকে যায়। সব মিলিয়ে এক অসুখী জীবন। সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে, মনোঃসংযোগের অভাবও দেখা দেয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি: কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে হিপনোফোবিয়া সারানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীরা আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার পাঠ দেন। অনুশীলনের মাধ্যমে অবচেতনকে বিভিন্ন সদর্থক অনুভূতির সাহায্যে ঘুম সম্পর্কিত আতঙ্ক থেকে মুক্ত করা যায়। 

এই সময় অনলাইন
https://www.facebook.com/Psychobd/

No comments:

Post a comment