Wednesday, 22 July 2026

পিটার প্যান সিনড্রোম

আবিদ একদম অন্যরকম। সে কখনোই তার আশেপাশের কোনো মানুষ কিংবা ঘটনার সাথে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হয় না। না আড্ডা,  না বন্ধু, না খেলা। কোন কিছুতেই সে নেই ! কর্মক্ষেত্রেও সে একদমই স্থিতিশীল নয়, কিছুদিন পরপরই চাকরি পরিবর্তন করে। সবসময় একাকীত্বে ভোগে।  


পিটার প্যান সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি হলো তারা, যারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও জাগতিক সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাখে, সমাজ সংসারের অংশ হওয়ার পরিবর্তে সেখান থেকে মুক্তির পথ খোঁজে। 

যেমন: ৩০ বছর বয়সী একজন পুরুষের কাছে হয়তো দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে, কিন্তু মানসিকভাবে সে এখনো একজন কিশোর রয়ে গেছে। তাই সে ভাবছে, তার উপর অর্পিত দায়িত্বগুলো অন্য কেউ পালন করে দেবে, যেমনটি বড়রা করত সে কিশোর বয়সী থাকতে।

মূল লক্ষণসমূহ
  • দায়িত্ব এড়িয়ে চলা: নিজের কাজ, সংসার বা চাকরির দায়িত্ব নিতে না চাওয়া।
  • অর্থনৈতিক নির্ভরতা: নিজের খরচ মেটাতে না পেরে বাবা-মা বা অন্য কারো ওপর নির্ভর করা।
  • স্থায়ী সম্পর্কে ভয়: দীর্ঘস্থায়ী বা গম্ভীর সম্পর্কে জড়াতে বা প্রতিশ্রুতি দিতে অনীহা।
  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অভাব: কোনো লক্ষ্য ছাড়াই জীবন কাটানো এবং শুধু মুহূর্তের আনন্দ খোঁজা।

পিটার প্যানরা জাগতিক সকল দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকার তো করেই, এমনকি নিজেদের জীবনের ব্যর্থতার দায়ভারও তারা নিজেরা নিতে চায় না। সেই দায়ও তারা অন্য কারো উপর চাপিয়ে দিতে চায়। তারা যে জীবনে বড় কিছু করতে পারেনি, পদে পদে হোঁচট খেয়েছে, এজন্য তারা আশেপাশের সবাইকে দায়ী করে। বাবা-মা, ভাই-বোন, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব, প্রেমিক-প্রেমিকা, জীবনসঙ্গী, সন্তান, অফিসের বস — কেউই বাদ যায় না তাদের রোষানল থেকে। সবাইকেই তারা নিজেদের শত্রু বলে মনে করে, এবং এই শত্রুদের কারণেই তারা জীবনে কিছু করতে পারেনি, এমন চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কিছুটা সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করে নিজেদের।


পিটার প্যান সিনড্রোমের কারণ

প্রথমত, যেসব শিশুকে ছোটবেলা থেকে বাবা-মা অনেক বেশি শাসনে বা আদরে রাখে, কিছু করতে দেয় না, তারা ক্রমশ পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তারা ভাবে, তাদের কাজগুলো সবসময় অন্যরাই করে দেবে। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তারা আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, যেসব শিশুদের ছোটবেলায় একা একা কাটে, কোনো সমবয়সী বন্ধুবান্ধব থাকে না, তারা নিজেদের তৈরি করা এক কাল্পনিক জগতে বিচরণ করে। বড় হওয়ার পরও তাদের পক্ষে সেই কল্পনার দুনিয়া থেকে বাস্তব দুনিয়ায় ফিরে আসা সম্ভব হয় না।

তৃতীয়ত, কোনো শিশু যদি ছোটবেলায় খুব বাজে কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়, যেমন তার বাবা-মায়ের মধ্যে অশান্তি চলে বা তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়, কিংবা শিশুটি (ছেলে কিংবা মেয়ে) যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, সে এক ধরনের ট্রমার মধ্য দিয়ে যায়। তার মনে নানা ধরনের অসুখ বাসা বাঁধে। এগুলো থেকে বাঁচতে সে নিজের মনেই এক ধরনের বিকল্প দুনিয়া তৈরি করে নেয়, যেখানে সে নিজেকে সুখী কল্পনা করে। এদিকে বাস্তব দুনিয়ার প্রতি তার মনে গভীর ঘৃণা বা ভীতি জন্মায়। তাই বাস্তব দুনিয়ার কারো সাথেই সে ভালো করে মিশতে পারে না, কোনো কাজ সহজভাবে করতে পারে না, কোনো দায়িত্ব গ্রহণের সাহস করে উঠতে পারে না।

No comments:

Post a Comment