Monday, 19 May 2014

ফোবিয়া বা ভয়

ফোবিয়া ব্যাপারটা বেশ আতঙ্কজনক। কোনও জিনিষ নিয়ে সামান্য ভয় পাওয়া এক কথা, আর অনর্থক চিন্তা বা প্যানিক করা, ভয়ের জিনিষ এড়িয়ে চলার প্রবণতা নিয়ে অকারণ কোনও আতঙ্ক ভুগতে থাকা আলাদা- একেই ফোবিয়া বলে। ব্যাপারটা এখন বেশ কমন, চারপাশের ব্যস্ত জীবনে যেমন আছে অনেক সুবিধা, তেমনই সেই সুবিধাগুলো নিয়েই হররোজ জন্ম নিচ্ছে হাজার রকমের ফোবিয়া। তবে এছাড়াও জেনেটিক ইনহেরিটেন্সের কারণেও বংশগতভাবে বয়ে আসে ফোবিয়া। চারপাশে চোখ ফেরালে কিছু সাধারণ ফোবিয়া নজরে পড়ে। আসুন চোখ বুলিয়ে জেনে নিন, আপনার চেনা কেউ এরমধ্যে কোনওটার শিকার কিনা:

জেনোফোবিয়া-আগন্তুকের সঙ্গে কথা বলার ভীতি

হাইড্রোফোবিয়া-জল -ভীতি
অ্যাক্রোফোবিয়া-উচ্চতায় ভয়
লাইগোফোবিয়া-পোকামাকড়ের ভয়
সেরানোফোবিয়া-ঝড়-বজ্রপাত-বিদ্যুৎ’এ ভয়
ক্লস্ট্রোফোবিয়া-দমবন্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়ার ভয়
এ্যাটিচিফোবিয়া-ব্যার্থতার প্রতি ভীতি
অ্যাম্যাক্সোফোবিয়া-যান বাহনে চলার ভয়
হামার্টোফোবিয়া-পাপ করার ভয়
স্নেকোফোবিয়া-সাপ’এর ভয়  

আরো কিছু ফোবিয়াঃ

অ্যাবলুটোফোবিয়া বা গোসলভীতি
অ্যাগরোফোবিয়া বা উন্মুক্তস্থানভীতি
এলুরোফোবিয়া বা বিড়ালভীতি
ক্লাস্টোফোবিয়া বা বদ্ধস্থানভীতি
নেফোফোবিয়া বা মেঘভীতি (এই ফোবিয়ার কাছাকাছি আরেকটি ফোবিয়া হচ্ছে অ্যানাবলফোবিয়া। অ্যানাবলফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ওপরের দিকে তাকাতে ভয় পায়। আকাশ, বাড়ির ছাদ, উঁচু গাছ, এমনকি উঁচু বিল্ডিংয়ের দিকে তাকাতেও ভয় পায় তারা)
স্পেকট্রোফোবিয়া বা আয়নাভীতি 
অ্যান্থোফোবিয়া বা ফুলভীতি
হেডোনোফোবিয়া বা আনন্দভীতি
হেলিওফোবিয়া বা সূর্যের আলোভীতি 
ব্যাথোফোবিয়া বা গভীরতাভীতি
ক্যালিগাইনোফোবিয়া বা সুন্দর নারীভীতি
হিপ্পোফোবিয়া বা ঘোড়াভীতি
জ্যান্থোফোবিয়া বা হলুদ রং ভীতি
অরনিথোফোবিয়া বা পাখিভীতি 
থ্যালাসোফোবিয়া বা সমুদ্রভীতি 
নেকরোফোবিয়া বা মৃত্যুভীতি
টমোফোবিয়া বা ১৩ সংখ্যা ভীতি 
আর্চনোফোবিয়া বা মাকড়সাভীতি
সোশ্যালফোবিয়া বা সামাজিক হেনস্থাভীতি
অফিডিও ফোবিয়া বা সর্পভীতি
সাইনোফোবিয়া বা কুকুরভীতি
এরোফোবিয়া বা উড্ডয়নভীতি বা বিমানে চড়ার ভীতি
এন্ড্রোফোবিয়া বা মহিলাদের পুরুষভীতি
গ্লসোফোবিয়া বা জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়াভীতি
এজিরোফোবিয়া বা রাস্তাভীতি
অটোফোবিয়া বা একাকিত্বভীতি 

গ্রিজুফোবিয়া : এক কথায় এটি প্লেনভীতি। আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্লেনে চড়তে ভয় পান। বিশেষ করে, প্লেন টেকঅফ ও ল্যান্ড করার সময়টায় বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
অ্যারাকনোফোবিয়া : এই ফোবিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মাকড়সাকে ভয় পান। লিকলিকে ৮ পাওয়ালার বিকৃত রূপ তাদের আতঙ্কিত করে তোলে।
আরসন ফোবিয়া : এ হলো আগুনের ভয়। এমনকি উৎসব অনুষ্ঠানের পটকা, আতশবাজি, ক্যাম্প ফায়ার, ফানুশ ইত্যাদির আগুনকেও এরা ভয় পায়।

ক্লসট্রোফোবিয়া : এক কথায় বদ্ধ জায়গার ভীতি। এসব মানুষ সাধারণত লিফটে চড়তে, ঘুপচি ঘর, চিলেকোঠা এমনকি কোনো রেস্তোরাঁর কোণায় দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকতে ভয় পান।

ডাক্তারি মতে, সোশ্যাল ফোবিয়া, স্পেসিফিক ফোবিয়া আর প্যানিক ডিসঅর্ডার-এই তিন ধরনের ফোবিয়া সাধারণভাবে দেখা যায়। ঠিকমত খেয়াল না করলে এমন ফোবিয়া পরে বড়সড় আকার নেয়। ছোটোবেলার কোনও খারাপ ঘটনা, অত্যাচারিত হওয়া কিম্বা মানসিক চাপের ফল হিসাবে সোশ্যাল ফোবিয়া হয়ে থাকে। সমাজে বাসের অযোগ্য মনে হতে থাকা এবং সকলেই তার আচার-আচরণ লক্ষ্য করছে সবসময়, সোশ্যাল ফোবিয়ায় এমনটাই মনে হয় মানুষের। অন্যদিকে কোনও কিছু নিয়ে অকারণ প্যানিক বা চাপা ত্রাস থকে তৈরি হয় প্যানিক ডিসঅর্ডার। এই রোগে ভুগতে থাকা মানুষ সবসময়ই ত্রাসের পরিস্থিতিকে এড়িয়ে চলতে চান। নিজের চেনা ভয়টির মাঝে আচমকা আটকে পড়লে কি হবে সেই চিন্তাতেই সর্বক্ষণই তারা ত্রস্ত থাকেন। আর ফোবিয়া জগতে সাধারণ সাপ ব্যাঙ, রক্ত, আঘাত, পোকামাকড়, জল,আগুন এসবে ভয় পাওয়াকে স্পেসিফিক ফোবিয়া বলে। মানুষের কমপ্লেক্স জীবনের পরতে পরতে জমা থেকে যাওয়া নানান ভীতি-কষ্টের আশঙ্কা-ক্ষোভ বা না-পাওয়ার মাঝেই জন্ম নিতে থাকে ফোবিয়া। 
যে কোনো ধরনের ফোবিয়াই একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে দেয়। ফোবিয়া মানুষের সামাজিক, ব্যক্তিগত ও কর্মক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে।ডাক্তারি চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু মেডিকেশন আর রেগুলার কাউনসেলিং করলে সেরে যেতে পারে। 

No comments:

Post a comment