Friday, 22 April 2016

আপনি কি প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত?

আপনি কি প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত?

তিথির বেশ কিছুদিন ধরে একটা সমস্যা হচ্ছে। যেকোনো ব্যাপারেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে সে। সাধারণ ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছে না। কেউ ফোন রিসিভ না করলে ভয় পেয়ে যাচ্ছে, বুক ধড়ফড় করে ওঠে, মাথার ভেতরে দপদপ করতে থাকে, হাঁটু কাঁপতে থাকে, গলা ক্রমশ শুকিয়ে আসে আর ঘাম ঝরে খুব। ব্যাপারটা ঠিক হতে সময় লাগে অনেক। শরীরের ঝাঁকুনি দীর্ঘসময় ধরে থাকে। মনে অজানা আতঙ্ক।

আপনারও কি এমনটি হয়? যেকোনো ব্যাপারেই কি এই অতি উদ্বিগ্নতা কাজ করে? উত্তর হ্যাঁ হলে এর নাম, প্যানিক ডিজঅর্ডার।



প্যানিক ডিজঅর্ডার

প্যানিক ডিসঅর্ডার স্ট্রেসের সময় সাধারণ ভয় ও অ্যাংজাইটি রিয়েকশনের চেয়ে ভিন্ন। প্যানিক ডিজঅর্ডার একটি সিরিয়াস কন্ডিশন যা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা সংকেত ছাড়াই হয়। হঠাৎ ভয় বা নার্ভাসনেস, ঘাম, হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি প্যানিক ডিজঅর্ডারের স্বাভাবিক লক্ষণ, যা নাকি একেবারেই  হঠাৎ করে চলে আসে।

যেভাবে বুঝবেন যে প্যানিক ডিজঅর্ডার রোগে ভুগছেন
* হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, মাথা ঝিমঝিম করা।
* দম বন্ধ হয়ে আসা, হাঁপানি রোগীর মতো বড় বড় করে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া।
* হাত-পা অবশ হয়ে আসা। শরীরে কাঁপুনি হওয়া।
* বুকের মধ্যে চাপ লাগা এবং ব্যথা অনুভব করা।
* এমনও দেখা গেছে, কোনো কোনো রোগী বলেন হঠাৎ পেটের মধ্যে একটা মোচড় দেয়, তারপর বুক ধড়ফড় শুরু হয়, সঙ্গে হাত-পা অবশ হয়ে যায়। আর কথা বলতে পারেন না।
* বমি বমি ভাব। পেটে অস্বস্তিবোধ ও গলা শুকিয়ে আসা।
* পেটে গ্যাস হয় এবং বুকে চাপ বোধ।
* দুশ্চিন্তা থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে। কোনো কোনো রোগী বুকে ব্যথা ও হাত-পায়ের ঝিমঝিমকে হার্টঅ্যাটাকের লক্ষণ মনে করে প্রায়ই ছুটে যান হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে।
* মৃত্যুভয় দেখা দেয়, মনে হয় এখনই মরে যাবেন রোগ যন্ত্রণায়।
* নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
* বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া/ইসিজি করানো।
* দূরে কোথাও গেলে স্বজনদের কাউকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া, পথে অসুস্থ হলে সাহায্যের দরকার পড়ে
নামাজ পড়তে গেলে একপাশে দাঁড়ান, যেন অসুস্থ হলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসা যায়।
* রোগীদের মধ্যে ভয় কাজ করে এই বুঝি আবার একটি অ্যাটাক হতে পারে।
* রোগের লক্ষণগুলো হঠাৎ শুরু হয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট পর কমে যায়।
* সেফটি বিহেভিয়ার- যেমন অ্যাটাকের সময় বসে পড়া, কোনো কিছু হাত দিয়ে ধরে সাপোর্ট নেয়া ইত্যাদি লক্ষণ রোগীর মাঝে দেখা দেয়। যা কি না হৃদরোগীদের মধ্যে লক্ষণীয় নয়।
* অন্য রোগের মধ্যেও প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে বিষন্নতায় দীর্ঘদিন ভুগলে।
* শুচিবায়ু নামক রোগেও এই রকম প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে।
* নিছক সামাজিক ভয়ে।
* নেশা ছাড়ার পর।

অন্যান্য কারণ
* জিনগত কারণ যেমন মা-বাবার মধ্যে প্যানিক ডিজঅর্ডার থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
* যাদের হার্টের ভাল্বের সমস্যা আছে তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যেসব পরিণতি হতে পারে
* সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে এ ধরনের রোগী ডাক্তারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সর্বস্বান্ত হন এবং সব শেষে নিজেই হার্টের রোগী বলে কাজকর্ম ছেড়ে দেন।
* বিষন্নতায় ভুগতে পারেন।
* নেশায় জড়িয়ে যেতে পারেন।
* এগোরেফোবিয়া নামক আরও একটি সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। তখন রোগী বাইরে বের হওয়া, হাটবাজার, রেস্টুরেন্ট ও ক্যান্টিন ইত্যাদি জায়গায় যেতেও ভয় পান।
* ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
* আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে।
* সর্বোপরি এই সমস্যার কারণে পরিবার, সমাজ ও জাতির বোঝা হয়ে যেতে পারেন।

চিকিৎসা
প্যানিক ডিজঅর্ডারে সাইকোথেরাপি ও ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
নিয়মিত ওষুধ সেবন করা। রোগীকে আশ্বাস দিতে হবে।
প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণগুলো কমিয়ে আনতে প্রথমেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে-
• অতিরিক্ত ক্যাফেইন প্রোডাক্ট যেমন কফি, চা, কোলা ও চকলেট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

 সঠিক সময়ে নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে চিকিৎসা করালে এসব রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
https://www.facebook.com/Psychobd

No comments:

Post a comment