Wednesday, 16 November 2016

বিষণ্ণতা


সামাজিক, পারিবারিক, মনস্তাত্ত্বিক, জৈবিক, বংশগত বিভিন্ন কারণে মানুষ বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়।
বাংলাদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ সাধারণ বিষন্নতায় ভুগে, তার মধ্যে আবার ১০ শতাংশ মানুষ তীব্র বিষন্নতায় আক্রান্ত। মাদকাসক্তি, আত্মহত্যার প্রধান কারণ বিষন্নতা। মূলত বায়োলজিক্যাল ও বায়োসাইকোসোশ্যাল কারণে বিষন্নতা দেখা যায়। হরমোনজনিত ও বংশগত বিষন্নতার পেছনে দায়ী বায়োলজিক্যাল বিন্যাস। শৈশবের কোনো ভয়ভীতি, দুর্ঘটনা বা তিক্ত অভিজ্ঞতা বিষন্নতায়র মূলে থাকলে সেটাকে আমরা বায়োসাইকোসোশ্যাল কারণ বলতে পারি।’
অন্তর্মুখী, সংবেদনশীল, অনুভূতিপ্রবণ ব্যক্তিদের বিষন্নতায় ভোগার প্রবণতা
বেশি। বিষাদ রোগে মস্তিষ্কের বিভিন্ন কোষে বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে এবং দুষ্টচক্রের মতো তা চলতেই থাকে। হরমোনের পরিবর্তনে, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতায়, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমনকি ঋতু পরিবর্তনেও (যেমন তীব্র শীতে) বিষন্নতা দেখা দিতে পারে। পুরুষের তুলনায় নারীরা বিষন্নতায় বেশি ভোগেন। সন্তান জন্মের পরপর অনেক নারীই পোস্ট-পারটাম ব্লু নামের বিষন্নতার কবলে পড়েন। মেনোপজের সময়ও নারীদের মধ্যে বিষন্নতার উপসর্গ দেখা যায়।
বিষন্নতার বিভিন্ন স্তর
বিষন্নতার একটা স্তরের সঙ্গে আরেকটা স্তরের উপসর্গে খুব বেশি পার্থক্য থাকে না। এদের আলাদা করা হয় তীব্রতার ভিত্তিতে।
হালকা বিষন্নতা
আত্মবিশ্বাস কমে যায়। সবকিছুর প্রতি অনীহা, উদ্যমহীনতা দেখা দেয়। ভালো লাগার কাজগুলোর প্রতিও উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। তবে এ স্তরে চিন্তাভাবনার যৌক্তিকতা ব্যাহত হয় না।
মাঝারি বিষন্নতা
হতাশা তীব্র হয়। হঠাৎ হঠাৎ কেঁদে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। চিন্তার গতি ধীর হয়ে যায়, গভীরভাবে চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে যায়। বিষাদাক্রান্ত ব্যক্তি অপরাধবোধে নিজেকে গুটিয়ে ফেলতে শুরু করেন, নিজেকে অকারণে দোষারোপ করতে থাকেন। বিষন্নতা জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। খিদে কমে যায়, ঘুমাতে কষ্ট হয়।
তীব্র বিষন্নতা
মাঝারি বিষন্নতার লক্ষণগুলো এ পর্যায়ে এসে তীব্র আকার ধারণ করে। জীবন পুরোপুরি বিষন্নতার দখলে চলে যায়। বিষাদাক্রান্ত ব্যক্তি প্রায়ই কাঁদতে থাকেন। নিজের চেহারা, পোশাকের ব্যাপারে কোনো সচেতনতা কাজ করে না। স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা ব্যাহত হয়। চেনা পরিবেশেও খাপ খাওয়াতে পারেন না। জীবনবিমুখ ও আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে পড়েন।
যারা বিষন্নতায় ভুগছেন, তাদের মধ্যে অস্থিরতা থাকে সময়। ফলে কোন কিছুতেই মনোসংযোগ করতে পারে না। অস্থিরতা ও চিন্তার ধীরগতি উভয়ই বিষন্ন ব্যক্তির মনে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ কারণে বিষণ্ণ ব্যক্তি প্রায়ই অনেক কিছু ভুলে গিয়ে থাকেন।
বিষন্নতা থেকে মুক্তি পাবেন কি ভাবে?
বিষাদাক্রান্ত ব্যক্তি অনেক সময় নিজে বুঝতে পারেন না তিনি বিষন্নতায় ভুগছেন কি না বা তাঁর বিষন্নতা কোন পর্যায়ে আছে।’ আমাদের সবারই উচিত খেয়াল করা আমাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীদের কেউ বিষন্নতায় আক্রান্ত কি না। কেউ নিজের ভেতর বিষন্নতার উপস্থিতি টের পেলে কারণটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। চিন্তা-প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনুন। নেতিবাচক চিন্তাকে সরিয়ে ইতিবাচকভাবে দেখতে চেষ্টা করুন বিষয়টিকে। ভেতরে সব চেপে রেখে একা একা কষ্ট না পেয়ে কাছের বন্ধু, আত্মীয়স্বজনকে খুলে বলুন। যা করতে সচরাচর ভালো লাগে তা করুন।’
প্রয়োজনে সাইকোলজিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কাউন্সেলিং, সাইকোথেরাপির মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা আপনার বিষন্নতা কাটাতে সাহায্য করতে পারেন। তাঁদের ওপর আস্থা রাখুন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
সুত্রঃ নেট এবং কাজের অভিজ্ঞতা

No comments:

Post a comment